Jobayer Academy

কেন জোবায়ের একাডেমি - পিছনের গল্প

2026-10-08

আমি কেমিক্যাল জগতের মানুষ, কেমিক্যাল নিয়ে কাজ করতে আমার সব সময়ই ভালো লাগে। পড়াশুনা কিংবা চাকরী, সবকিছুই ছিলো আমার কেমিক্যার নিয়ে। অনলাইনে রিবানা নামক একটা কম্পানির হ্যান্ডমেড সোপ দেখি, বেশি ভালো লাগতো সেই সোপগুলো। মাঝে মাঝে ভাবতাম, হাতে তৈরী সাবান মানুষ কি  কেনে? খুব একটা পাত্তা দিলাম না। 

তখন আমার শাড়ি, থ্রি পিস এর ব্যবসা। খুব একটা ভালো যাচ্ছিলো না। একবার আমার একটা ভিডিও ভাইরাল হয়। যে কয়টা থ্রি পিচ কিনে এনেছিলাম সবগুলা সেল হয়ে গেলো। তারপর সাপ্লাইয়ারের কাছে গেলাম আরো থ্রি পিচ আনতে। সাপ্লাইয়ার বললো, স্টোক আউট, দুই সপ্তাহ পরে দিতে পারবে। কাষ্টমার কি ততো দিন দিন আমার জন্য অপেক্ষা করবে?

এমন ঘটনা আমার সাথে কয়েকবার ঘটে, পণ্য সেল হয় কিন্তু সাপ্লাই নাই। বেশি চিন্তায় পড়ে গেলাম, তখন ভাবলাম এমন কোন পণ্য নিয়ে কাজ করতে হবে যা চাইলে আমি কাষ্টমারকে দিতে পারবো।

সম্ভবত, ২০২০ এর দিকের ঘটনা, সোপষ্টার নাম একটা কম্পানির নিউজ চোখে পড়ে, তারাও হ্যান্ডমেড সোপ নিয়ে কাজ করে, খুব সুন্দর সেটআপ তাদের। বিষয়টা আমার বেশি নজরে আসে। ঠিক তার কিছুদিন পরে প্রথম আলোর আর একটা নিউজ চোখে পড়ে, সেখানে রিবানা আর সোপষ্টারকে নিয়ে আলোচনা ছিলো। সেই থেকেই টুকটাক সোপ তৈরী করার চেষ্টা শুরু করি। প্রথমদিকে মোটামুটি কোয়ালিটি আসতো। নিজে ব্যবহার করতাম। টুকটাক সেল করতাম।

প্রশিক্ষন নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে খুঁজে বেড়ালাম। বাংলাদেশে কোন সোপ এক্সপার্ট খুঁজে পেলাম না। দুই একজন যা পেলাম তাদের সবাই ইউটিউব এক্সপার্ট মনে হলো। ইন্ডিয়াতে পেলাম তবে সেটা ২-৩ লক্ষ টাকার মত খরচ হবে। পরবর্তীতে ইউটিউব গুগল দেখে আর নিজের অভিজ্ঞতা থেকে নিজেই তৈরী করলাম কোল্ড প্রসেজ সোপ। প্রথম দিকে সোপ না হলেও পরবর্তিতে বেশ ভালো সোপ তৈরী করি। আনন্দে আত্নহারা হয়ে অনেক বড় প্রডাকশন শুরু করলাম। ১০-১৫ দিন সকাল বিকাল আমার তৈরী সোপ গুলো দেখি আর মুগ্ধ হই। 

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার লক্ষ লক্ষ টাকার প্রডাক্টশন ধিরে ধিরে গলতে শুরু করে। এক পর্যায়ে পুরোপুরি গলে যায়। আমি মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ি। তখন মনে মনে ভাবি, ইউটিউব গুগল দেখে হয়তো ঠিকই সোপ তৈরী করা যায়, আসলে সেটা মানুষের ত্বকের উপযুক্ত কিনা সেটা বোঝার জন্য দরকার হবে সঠিক নলেজ। সেই থেকে আবার পড়াশুনা শুরু করি। নতুন নতুন রেসিপি ডেভলপ করি, নিজে ইউজ করি, সোস্যাল মিডিয়াতে পোষ্ট করি। ধিরে ধিরে বিদেশি সোপ আর্টিষ্টদের সাথে পরিচয় হয়। আমার কাজের গতি আর এক্সপেরিমেন্ট দেখে বিশ্বের নামি দামি কিছু কম্পানীর মালিকগণ আমার সাথে যোগাযোগ করেন। ধীরে ধীরে সম্পর্ক বন্ধুত্বে রূপ নেয়। তাদের মধ্যে একজন রেবেকা ফিস, যাকে কোন দিন ভোলার নয়। ৩টা বছর তিনি আমাকে গাইড করেছেন। বাংলাদেশের আবহাওয়া, স্কিন নিয়ে তিনি ধারণা দিতেন, তেল ও উপাদান নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতাম। 

uploaded image


২০২২ বা ২০২৩ এর দিকে হবে ইকেবানা নামক একটা প্রতিষ্ঠিানের নিউজ ভাইরাল হয়। নিউজটা আমার এতোটাই ভালো লাগে তখন আমি ইকেবানার আনিস ভাইকে কল করলাম। খুব একটা পাত্তা পেলাম না। সেলিব্রেটিরা যা করে আরকি। তখন বেশ জেদ কাজ করে। 

যখন আমি মানুষকে বলতাম এটি হ্যান্ডমেড সোপ, তখন বেশিরভাগ মানুষই জানতো না, আসলে হ্যান্ডমেড সোপটা কি? এতোটা বোঝানোর চেষ্টা করতাম কিন্তু কাজ হতো না। আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটার, তাই মাথায় আসলো এই পণ্য সেল করতে হলে সবার প্রথমে হ্যান্ডমেড সোপটা আসলে কি সেটা বাংলাদেশের মানুষকে চেনাতে বা বোঝাতে হবে। ক্যালকূলেট করে দেখলাম, এটা যদি আমি প্রচার করতে যাই তাহলে হিউজ ইনভেষ্টমেন্ট দরকার হবে। তখন অতটা টাকা পয়সা আমার ছিলো না। কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। এরই মধ্যে সোপ বিষয়ে বেশ নলেজ হয়ে গেলো, তাই তৈরী হলো জোবায়ের একাডেমি। আর আজ সবাই জানেন, বর্তমানে জোবায়ের একাডেমি কতটা পরিচিত।

জোবায়ের একাডেমি কেন প্রতিষ্ঠিতি হলেছিলো?


কোল্ড প্রসেজ সোপ সেল করতে গিয়ে দেখি মানুষ এটি কিনতে চায় না, আসলে তেমন কেউ এটা চেনে না। তাই ভাবলাম এটার প্রচার করি। পরে দেখি প্রচার করতে গেলে বেশ খরচ হয়ে যায়। লক্ষ লক্ষ টাকার বিষয়। তাই ভাবলাম যদি একটা ট্রেইনিং সেন্টার করি তাহলে কিছু স্টুডেন্ট তৈরী হবে, আর তখন সেই ষ্টুডেন্টদের মাধ্যমেও প্রচার হবে। আমি একটা যদি ১ লক্ষ টাকার প্রচার করি তাহলে ১০০ জন ষ্টুডেন্ট সবাই মিলে ১ কোটি টাকার প্রচার করবে। এক কথায় বলা যায়, নিজের তেমন একটা খরচ হলো না। যেই চিন্তা সেই কাজ। শুরু হলো জোবায়ের একাডেমি।
uploaded image
আল্লাহ হাফেজ