বাঙ্গালী কেন যেন ইচ্ছা করে ফাঁদে পড়তে ভালোবাসে। আর যখন ফাঁদে পরে সব হারায় তখন সকল দোষ পরে তারিজ বিক্রেতার উপর।
প্রত্যেক দুধ বিক্রেতা তার দুধকে খাঁটি বলবে সেটাই তো স্বাভাবিক আর বিক্রি করতে কিছু রসাল বাক্য জুড়ে দিতেই পারে, এটা অপরাধ নয়, এটা মার্কেটিং কৌশল। যুগ যুগ ধরে এটা চলে আসছে। বিশ্বাস হচ্ছে না? ফেয়ার এন্ড লাভলীর কথা মনে আছে? ৭ দিনেই ফর্সা করে দিতো, বাস্তবেকি তাই?
তরমুজ লাল না হলে আপনি কিনবেন না, ডাবের পানি মিষ্টি না হলে খাবেন না, বাধ্য হয়েই তো রং আর স্যাকারিন মিক্স করতে হয়।
কাউকে যদি অপরাধী বলতে হয় তাহলে বলবো আপনি অপরাধী, কোন কোর্স কেনার আগে কেন তার বাস্তবতা বিবেচনা করেন না? কেউ একজন বললো কোর্স করলে কোটিপতি হয়ে যাবেন, আপনি লাফ দিয়ে পড়ার আগে কেন ভাবেন না যে সেটা সম্ভব কিনা? কোর্সটি ভালো না খারাপ তা বোঝার জন্য কেন কোর্স রিভিউ, শিক্ষার্থীর মতামত, কোর্স কনটেন্ট, কমেন্ট ইত্যাদি চেক করেন না?
আপনারা চেক করেন না সেটা বললেও ভুল হবে, যা চেক করেন, তা হলো কোর্স সেল করে কোর্স বিক্রিতার কত লাভ হলো? আপনি সোপ তৈরী শেখান তাহলে আপনার ফ্রাক্টরী কয়টা? তার মানে নিজের হিসেব করার থেকে আমরা অন্যের হিসেবে ব্যস্ত।
বাঙ্গালী যতদিন তাদের লোভ নিয়ন্ত্রন করতে পারবেনা ততোদিন তাদের মুক্তি মিলবে না।
কোন এক গুণিজন বলেছিলেন, মুর্খের দেশে ইউনিভার্সিটি কিসের? ঠিক তাই, এদেশের জন্য ইউনিভার্সিটি নয়।
আমরা কতটা মুর্খ চলেন একটা প্রমান দেই, কিছুদিন আগে আমার একটা নিউজ আসছিলো, সেখানে আমি বলেছিলাম পাঙ্গাস মাছের তেল দিয়েও সাবান তৈরী করা সম্ভব। আর সাংবাদিক লিখলো, পাঙ্গাস মাছের তেল দিয়ে সাবান তৈরী করে সফল হলেন জোবায়ের রহমন। নিউজটির ভিতরে আমি কোথাও কি এমন কথা বলেছিলাম? অথচ এক শ্রেনীর মানুষ সেই নিউজে কি পরিমান গালি দিলো, কেউ কেউ তো লিখেন ”গু দিয়ে সাবান বানান” কেউ আবার সেই কমেন্ট স্ক্রিন শর্ট নিয়ে নিজের পেজে প্রচার করেছে, কেউ কেউ আবার প্রসঙ্গটা নিয়ে বেশ রসালো বাক্য বিনিময় করেছেন। এই কাজটা করেছে কেবল মাত্র টাইটেল দেখে, ভিতরের নিউজটা একবার দেখারও প্রয়োজন মনে করেননি।
বিবেক শূণ্য এই বাঙ্গালীর মুক্তি কি আদৌ কোন দিন মিলবে?