বাজেট প্রবলেম? শুরু করুন ইউটিউব এফিলিয়েট মার্কেটিং

আমরা সবাই জানি এফিলিয়েট মার্কেটিং হলো অনেকটা ইনভেষ্টমেন্ট ‍প্রসেস। যার যতো ইনভেষ্ট সে ততো এগিয়ে থাকতে পারে। তবে সঠিক ভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ, নেটিভ আর্টিকেল আর সঠিক অনপেজের মাধ্যেমে কম খরচে সাইট দাড় করানো সম্ভভ। তাতেও রয়েছে আর্টিকেল লেখার খরচ। সাইট মেন্টেন করার খরচ। তবে আজকে তাদের জন্য লিখছি যারা ইনভেষ্টমেন্ট প্রবলেমে আছে। কিংবা কাজ করবো করবো করে করা হচ্ছে না। তবে আর্টিকেলটা পড়ার সাথে সাথে ঝাপিয়ে পড়বেন না। আগে পড়ুন, বুঝুন কিছুদিন চিন্তা করুন তারপরে না হয় শুরু করুন। দূর থেকে সকল পাহাড়কেই ছোট মনে হয়, কাছে গেলে বোঝা যায় পাহাড়টি কতো বড়। পৃথিবীর কোন কাজই সহজ নয়, আর তা যদি হয় টাকা কিংবা ডলার ইনকাম তাহলেতো কথাই নাই। চলুন তাহলে মূল বিষেয়ে চলে যাই।

ইউটিউব এফিলিয়েট মার্কেটিং

হ্যা ঠিকই শুনেছেন ইউটিউব এফিলিয়েট মার্কেটিং। বিষয়টার সাথে আমরা অনেকেই পরিচিত আবার কেউ কেউ নতুন। যারা নতুন তারা বিষয়টা নিয়ে ঘেটে দেখতে পারেন। একটি ইউটিউব চ্যানেল, নিয়মিত ভিডিও আপলোড, কল টু একশন, এমাজনে ভিজিটর পাঠানো, সেল সব শেষে কমিশন। কাজ এই টুকু। তবে কিছুটা বিস্তারিত জেনে নিলে মনে হয় কাজ করত বেশ সুবিধা হবে। চলুন বিস্তারিত জেনে নেই।

কিওয়ার্ড রিসার্চ

ওয়েব সাইট কিংবা ইউটিউব চ্যানেল, কিওয়ার্ড রিসার্চ করাটা সবার জন্য জরুরী। যে কোন কাজের প্রথম ধাপ বলতে পারেন। যদিও আপনার সফলতা নির্ভর করবে কিওয়ার্ড রিসার্চের উপর। যেহেতু আমরা ইউটিউব এফিলিয়েট মার্কেটিং করবো তাই কিওয়ার্ডগুলো “ভিডিও কিওয়ার্ড” হলে বেটার হয়। অর্থাৎ যে কিওয়ার্ড লিখে ভিডিও সার্চ দেয়া হয়। কিভাবে বুঝবেন কোনটা ভিডিও কিওয়ার্ড?

উদাহরন হলো “SEO Bangla Tutorial” এই টিউটোরিয়াল পাওয়ার জন্য কিন্তু কেউ ওয়েব সাইট খোজে না। এটা একটা উদাহরন মাত্র। এই ভিডিও কিওয়ার্ড খুজে পাওয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো ইউটিউব সাজেশন। এই সাজেশন থেকে কিওয়ার্ডগুলো খুজে বের করুন। খুব একটা কঠিন কাজ বলে আমার মনে হয় না। অন্যদিকে সহজ উপায় হলো, আপনার নিশ রিলেটেড কিছু ইউটিউব চ্যানেল খুজে বের করুন। তারা কি কি কিওয়ার্ড নিয়ে কাজ করেছে এক ঝলকে দেখে নিন।

আরো পড়ুন ::  ইন্টারনাল এবং এক্সটারনাল লিংকিং কি? লিংকিং এর গুরুত্ব

keyword suggestion

নিশ রিলেটেড চ্যানেল খুজে বের করতে পারলে আপনার ভিতর আইডিয়া জেনারেট করবে, কিভাবে আপনি ভিডিও বানাবেন। আইডিয়াগুলো কাজে লাগান।

কিভাবে ভিডিও বানাবো

আসলে এই আইডিয়া দেয়াটা বেশ কঠিন কাজ। যেহেতু আমি ভিডিও মার্কেটার না তাই আমার পক্ষে আইডিয়া দেয়াটা আরো কঠিন। তবে ভিডিও দেখে যে সব আইডিয়া পেয়েছি তার বিবরন দিচ্ছি।

প্রথমত: সবচেয়ে বেটার হয় যে প্রডাক্টের এফিলিয়েট করতে চান সেই প্রডাক্টটা কোন ভাবে সংগ্রহ করা। তারপর সেই প্রডাক্টের ফিয়েচার, দোষ গুন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করা।

দ্বিতীয়ত: যেহেতু প্রডাক্ট সংগ্রহ করাটা কঠিন তাই অনেককে দেখেছি ভিডিও ফুটেজ কালেকশন করে দারুন দারুন ভিডিও বানিয়ে বেশ সেল জেনাটে করছে।

তৃতীয়ত: ভিডিও ফুটেজ আর এমাজন থেকে ছবি নিয়ে অনেকেই সুন্দর সুন্দর ভিডিও বানায়। সাথে থাকে সুন্দর ভয়েজ ওভার।

চতুর্থত: আপনি যেভাবে ইচ্ছা ভিডিও বানাতে পারেন। তবে আমাদের মুল উদ্দেশ্য কিন্তু প্রডাক্টের ফিয়েচার, দোষ গুন আলোচনা করা। বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে কিনা খেয়াল করে ভিডিও বানান।

ভিডিওতে অবশ্যই কল টু একশন থাকতে হবে। অর্থাৎ, ভিজিটরকে উৎসাহিত করতে হবে ডিসক্রিপশন বক্স চেক করার জন্য। বিষয়টা এমন হতে পারে “আপনি যদি এর লেটেস্ট প্রাইজ চেক করতে চান তাহলে ডিসক্রিপশন বক্সে দেয়া লিংকে ক্লিক করে জেনে নিতে পারেন”।

ইউটিউব এসইও

ইউটিউব এসইও একটা জটিল বেপার। কখন কোন কারনে একটা ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় বলা মুশকিল। আর একবার একটা ভিডিও ভাইরাল হলে কতটা সেল আসতে পারে কল্পনাই করা যায় না। ইউটিউবের ভিডিও ভাইরাল করার জন্য কি কি করা যেতে পারে নিচে আলোচনা করা হলো-

১। সবার থেকে ভালো কোয়ালিটির ভিডিও ও ভিডিওতে নতুনত্ব কিছু থাকতে হবে। গতানুগতিক ভিডিও এখন আর ভিউয়ার্সরা পছন্দ করে না। ভিউয়ার্সদের মনোযোগ আকর্ষন করতে হলে অবশ্যই ভিউয়ার্সদের মন মত ভিডিও বানাতে হবে। আপনার মন মত হলে চলেবে না। কারন ভিডিও আপনি দেখবেন না, দেখবে কিন্তু ভিউয়ার্স।

আরো পড়ুন ::  নিশ সিলেকশন করুন সহজ কিছু উপায়ে ও বুদ্ধি খাটিয়ে

২। ভিডিও ভাইরাল করার অন্যতম উপায় হলো ভিডিওর থাম্বনেইল। যে ভিডিওর থাম্বনেইল ভালো না সেই ভিডিও হাজার ভালো হলেও ভিউয়ার্স পাওয়া যায় না। তাই টাইটেল হবে খুবই আকর্ষনীয়।

৩। আকর্ষনিয় টাইটেল হতে হবে। টপ ভিডিওগুলোর টাইটেল দেখে নিজের মত করে আইডিয়া জেনারেট করে টাইটেল দিন। যেন যে কেউ টাইটেল দেখেই ভিডিওতে ক্লিক করে।

৪। প্রডাক্টের ডিটেইল ডিসক্রিপশন বক্সে লিখুন। তবে খেয়াল রাখুন, প্রথম লাইনে যেন মূল কিওয়ার্ড থাকে।

৫। ভিডিও রিলেটেড ট্যাগ দিন।

৬। এন্ড স্ক্রিন ও কার্ডস ব্যবহার করুন।

৭। সোসাল মিডিয়াতে ভিডিও মেয়ার করুন।

৮। চ্যানেলে প্লেলিষ্ট করুন। তাছাড়া চ্যানেল ভালো ভাবে কাষ্টমাইজ করুন। দেখলে যেন প্রফেশনাল চ্যানেল মনে হয়। চ্যানেলের কভার, আর্ট, ডিসক্রিশন ইত্যাদি ভালো ভাবে দেয়ার চেষ্টা করুন।

৯। নিয়মিত আপনার কম্পিটেটরদের ভিডিও দেখুন, সেখানে মন্তব্য করুন।

ভিডিওতে ভিউ বাড়ানোর সহজ উপায়

ভিডিওতে যত বিউ বাড়াবেন, ভিজিটর যত বেশিক্ষন আপনার ভিডিও দেখবে আপনার ভিডিও ততো ভাইরাল হওয়ার চান্স থাকবে। তার মানে হলো, কোয়ালিটি ভিডিও দেয়ার সাথে সাথে তার ভিউও বাড়াতে হবে।

পিন্টারেষ্ট কিংবা ফেসবুক মার্কেটিং হতে পারে আপনার সেরা পছন্দ। পিন্টারেষ্ট মার্কেটিং নিয়ে এর আগে অনেক আলোচনা করেছি। কিভাবে পিন্টারেষ্ট থেকে ভিজিটর বাড়াবেন তা নিয়ে আমাদের টিউটোরিয়ালও রয়েছে। যেহেুত আমাদের ইইএসএ ভিজিটর টার্গেট তাই পিন্টারেষ্টই হলো একমাত্র সহজ মাধ্যম যেখান থেকে হিউজ ইউএসএ ভিজিটর ড্রাইভ করা সম্ভভ। ভিডিওটি দেখে নিলে আপনার জন্য কাজ করতে সুবিধা হবে।

এফিলিয়েট লিংক বসানো

ভিডিও ভাইরাল হলো কিংবা ভিউ আসতে শুরু করলে আপনি ভিডিও ডিসক্রিপশনে প্রডাক্টগুলোর এফিলিয়েট লিংক বসিয়ে ভিজিটরদের এমাজনে পাঠিয়ে দিতে পারবেন। সেখানে সেল হলেই আপনার কমিশন আপনার একাউন্টে জমা হবে।

সব শেষে

যে কোন কাজে নামার আগে ১০ বার ভাবুন বিশেষ করেন ইউটিউব এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার আগে। নামার পরে ভাবলে খুব বেশি সামনে আগাতে পারবেন না। ভিডিও বানানো খুব সহজ বিষয়টা কিন্তু এমন না। বেশ সময় সাপেক্ষ ও ধর্য্য নিয়ে কাজ করতে হবে। ইউটিউব মার্কেটিং এর একটা বড় অসুবিধা হলো, ইউটিউব ভিডিও কখন ভাইরাল হবে সেটা আপনি আগে থেকে আচ করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে ওয়েব সাইট নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের কিন্তু ভুল সংশোধন করার সুযোগ রয়েছে। ভিডিও কিন্তু সংশোধন করতে পারবেন না।

আরো পড়ুন ::  কনটেন্ট লেখার আগে কিভাবে কনটেন্ট স্ট্রাকচার দাড় করাবেন

অনলাইন উপার্জন সম্পর্কে বিভিন্ন আইডিয়া পেতে আমাদের Make Money ক্যাটাগরি ভিডিট করে দেখতে পারেন। আল্লাহ হাফেজ।

1 thought on “বাজেট প্রবলেম? শুরু করুন ইউটিউব এফিলিয়েট মার্কেটিং”

Leave a Comment