পেইড এসইও কোর্স কিনেও কেন আপনি সফল হতে পারেন না

কোন কিছু শিখে ফেলা আর সফলতা দুটি কিন্তু দুই বিষয়। আপনি চাইলে যে কোন টিউটোরিয়াল দেখেই এসইও শিখে ফেলতে পারেন কিন্তু সফল হতে হলে আপনার ভিতরের কিছু ধারনা বদলাতে হবে। আজ আপনাদের সাথে কিছু বিষয় শেয়ার করবো আর তা হলো, পেইড এসইও কোর্স কিনেও কেন আপনি সফল হতে পারেন না। চলুন তাহলে কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক।

আমরা কখন পেইড এসইও কোর্স কিনি?

  1. যখন একজন মনে মনে ভাবে পেইড কোর্সে সিকরেট বিষয় জানা যায়।
  2. পেইড কোর্সে হাতের ভিতর সব দিয়ে দেয়া হয়। ভবিষ্যতে আর কিছুই করতে হবে না।
  3. পেইড কোর্স কিনলে আর কোন ইনভেষ্ট নাই। নিজে সব শিখে সব করতে পারবো।
  4. পেইড কোর্সই সফলতার একমাত্র চাবিকাঠি।
  5. দেখি কিছু শেখা যায় কিনা।
  6. আর এক শ্রেনীর মানুষ আসে, নতুন কিছু শেখার জন্য।

ফলাফল

  1. ১-৪ শ্রেনীর মানুষগুলো কোর্স কেনার পরে হতাশ হয়ে পড়ে। কারন যখন দেখে একটা ওয়েব সাইট রান করা বেশ জটিল এবং ইনভেষ্টমেন্টের বিষয়।
  2. কিছু মানুষ ইনভেষ্ট কিভাবে করবে খুজে বেড়ায়। যারা ম্যানেজ করতে পারে তারা মাঠে নামে। আর যারা ইনভেষ্ট না করতে পারে। তারা কেবল এগ্রুপ থেকে ও গ্রুপে ঘুরে বেড়ায়। সুযোগে থাকে কিছু টাকা কিভাবে ম্যানেজ করা যায়।
  3. কিছু মানুষ কিছুই না করতে পেরে পিছনে বদনাম করতে শুরু করে। তখন পেইড কোর্স ডাউনলোড করে ১০০-৩০০ টাকায় বিক্রি করার ধান্দায় থাকে।
  4. কিছু সদস্য ওয়ে খোজে কিভাবে মেধাকে কাজে লাগিয়ে উপার্জন করা যায়। তাই তারা ঘুরে বেড়ায় মার্কেটপ্লেসে নয়তো নানান গ্রুপে সার্ভিস প্রভাইড করে।

তাহলে পেইড কোর্সে কি শেখানো হয়?

এই পর্যন্ত যত পেইড কোর্স করেছি তাতে এতটুকু বলতে পারি সব কিছু নিজেকে শিখতে হবে। কোন পেইড কোর্সই আপনাকে পরিপূর্ন এসইও এক্সপার্ট তৈরী করতে পারবে না যদিনা নিজের ইচ্ছা থাকে। এমনকি কোন সিকরেট ট্রিক্স বা রিসোর্সই হাতে দিয়ে দেয় না। তবে সিকরেট ভাবে কিভাবে কাজ করতে হয়, আর প্রয়োজনীয় রিসোর্স কিভাবে নিজে নিজে খুজে পেতে হয় সকল বিষয় দেখিয়ে দেয়া হয়। সেই সাথে কিছু বিষয় প্রাকটিক্যাল দেখিয়ে দেয়া হয়। বাকি কাজটা নিজেকে করে নিতে হয়।

আবারো ঘুরেফিরে একই কথা চলে আসে, সব কিছু নিজেকেই করতে হয় কোর্স আপনার গবেষনা কিংবা কাজগুলোকে কেবল সহজ করে দেয়।

পেইড কোর্স কিনেও কেন সফল হতে পারি না

একটা পেইড এসইও কোর্স কিনেই আমরা সেগুলা দেখা শুরু করি। আর মনে মনে প্লান করি দেখা শেষ হলে কাজে নেমে পড়বো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, শেখা শেষ হতে হতে আর কাজ করা হয় না। যদিও আমাদের দেশের পেইড টিউটোরিয়াল গুলোতে দুটি বিষয়ে ধারনা দেয়া হয় না যে কারনে কোর্স কিনেও সেটিকে কাজে লাগানো হয় না। প্রথমটি হলো, নিশ সিলেকশন নিয়ে পরিষ্কার কোন ধরনা দেয়া হয় না, আবার পরের বিষয়টি হলো, কাজে নামার বেপারে কোন প্রকার প্রেশার দেয়া হয় না। যদিও জোবায়ের একাডেমির প্রিমিয়াম কিংবা প্রো কোর্স-এ এ বিষয়ে বেশ জোড় দিয়ে থাকে।

যাই হোক, দুটি বিষয়ে জোড় না দেয়ার কারনে নতুনরা খুবই বিপদে পড়ে যায়। আর নিজের স্বল্প ধারনা নিয়েই নিশ পছন্দ করেই হাই কম্পিটিটিভ নিশ নিয়ে কেউ কেউ ঝাপিয়ে পড়ে। ফলাফল দাড়ায় বিফলতা। তাহলে এই দোষটি কার? মেন্টর নাকি শিক্ষার্থীর? আসলে দোষ দুজনেরই বলা চলে। কারন আমরা বাঙ্গালী হাতে ধরে না দিলে খেতেও পারি না ঠিক ভাবে অন্যদিকে জোড় না দিলে কেউই কাজে নামে না। তাই সব সময় মনে করি, পেইড কোর্সের সিলেবাস হতে হবে বেশ চিন্তা ভাবনা করে। যদি বিদেশিদের নিয়ম গুলো আমাদের দেশের মানুষদের উপর ফলাতে চাই তাহলে হিতের বিপরীত হবে এটাই স্বাভাবিক মনে করি।

তাহলে সমাধান?

সমাধান একটাই আর তা হলো বাধ্য করা এবং বাধ্য হওয়া। মানে বুঝলে না তাইতো? ঠিক আছে বুঝিয়ে বলছি। মেন্টরকে অবশ্যই অভিজ্ঞ হতে হবে। জোবায়ের একাডেমি সব সময় বলে, একজন ভালো স্টুডেন্ট একজন ভালো টিচার নাও হতে পারে। তাই একজন মেন্টরকে প্রজেক্ট ভিত্তিক কাজ শেখাতে হবে। রেকর্ড ক্লাশ বাদ দিয়ে জোবায়ের একাডেমির মত লাইভ ক্লাশের ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতি ক্লাশে শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ দিতে হবে এবং সেভাবে বাড়ির কাজ যাচাই করতে হবে। আর এ সকল কাজ শিক্ষার্থীদের করতে বাধ্য করতে হবে। দুদিন শিখিয়ে তিন দিনের দিন ফাইভারে গিগ খুলতে উৎসাহীত করা কোন ভালো শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের কাজ হতে পারে না। আপনি যদি সঠিক যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন তাহলে আপনাকে আর কাজের পিছনে ছুটে বেড়াতে হবে না, কাজই আপনাকে খুজে নেবে।

অন্যদিকে, এসইও শেখার সময় অবশ্যই আপনাকে ডোমেন হোষ্টিং কেনার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আর সেখানে চালানো হবে সকল এক্সপ্রিমেন্ট। হয়তোবা আপনার কয়েক হাজার টাকা লস হবে কিন্তু প্রাকটিক্যাল কোন কিওয়ার্ডকে রেংক করাটা হবে আপনার জন্য প্রকৃত শিক্ষা।

সব শেষে বলতে হচ্ছে, দূর থেকে সকল পাহাড়কেই ছোট মনে হয়। কিন্তু একটা ছেড়ে যখন অন্যটার কাছে যাবেন তখন আগের পাহাড়কেও ছোট মনে হবে। যে কোন একটা ভালো নিশ পছন্দ করে ডোমেন হোষ্ট কিনেই কাজ শুরু করে দেন। হয়তো কিছু বিফলতা আসবে, কিন্তু এই বিফলতাই আপনাকে সফলতার দ্বারে পৌছে দেবে।

যাই হোক, ফ্রি এসইও টিউটোরিয়াল পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানলটি ভিজিট করুন। কোন প্রোশ্ন থাকলে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে পোষ্ট করুন। আজকের মতে তাহলে এই পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।

5 thoughts on “পেইড এসইও কোর্স কিনেও কেন আপনি সফল হতে পারেন না”

  1. Sir, Ami Mahfuz. Digital Marketing Sikhtesi LEDP hote 6 Month dore. Now Mutamuti sob buji but ekta mentor lagbe SEO ta perfectly implement er jonno so Aami Apnader Pro Batch er akjon member hote chai. kno sujug ase ki amr jonno?

    Reply
    • প্রতি দেড় মাস পরপর প্রো ব্যাচ শুরু হয়। ৩য় ব্যাচ চালু হবে আগামি নভেম্বর মাসের শেষের দিকে। ইন্টারভিউতে জয়েন করতে হবে। বিবেচনা স্বাপেক্ষে আপনাকে সুযোগ দেয়া যেতে পারে। গ্রুপে চোখ রাখুন। সকল তথ্য গ্রুপে দেয়া হবে।

      Reply

Leave a Comment