এই ৫টি On-Site SEO Factors মেনে চলুন আর্টিকেল Rank করবে

আমরা সাবাই জানি অনপেজ এসইও হলো তেমন কিছু কাজ যে কাজগুলো আমাদের সাইটের ভিতরে করে থাকি। আজ তেমন ৫টি খুবই গুরুত্বপূর্ন On-Site SEO Factors নিয়ে আলোচনা করবো যা আপনার সাইটকে রেংক করাতে খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করবে। চলুন তাহলে কথা না বাড়িয়ে মূল টপিকে চলে যাই।

১/ আর্টিকেল বা কনটেন্ট

আমরা সবাই জানি কনটেন্ট ইজ কিং। তার মানে কনটেন্ট নিয়ে কোন প্রকার কপ্রোমাইজ চলবে না। আবার কনটেন্ট মানে এই না আপনি যা খুশি লিখলেন আর রেংক করলো। Ahrefs এর একটি গবেষনায় দেখা গেছে প্রায় ৯১% কনটেন্ট কোন প্রকার কাজে আসে না। অর্থাৎ কোন গুগল থেকে কোন প্রকার ভিজিটর পায় না। তার মানে দাড়ালো আমাকে কনটেন্ট খুব যত্ন নিয়ে লিখতে হবে। চলুন তাহলে দেখে নেই কনটেন্ট লিখতে কোন কোন বিষয় এর উপর নজর দিতে হবে।

ইউজারদের উদ্দ্যেশ বিবেচনা

আমরা মূলত কাকে টার্গেট করছি সেটা আগে বিবেচনা করতে হবে। যেমন ধরুন যে তথ্য নিয়ে আসছে তাকে, নাকি কেউ কিছু কিনতে আসছে তাকে। যদি আপনার উদ্দ্যেশ্য হয় কোন কিছু বিক্রি করা তাহলে যে ব্যক্তি তথ্য নিয়ে আসছে তাকে টার্গেট করে আপনার তেমন কোন ফয়দা হবে না। চলুন দেখি কি কি করা যায়-

১। আপনাকে আগে বুঝতে হবে কিওয়ার্ড এর উদ্দ্যেশ্য কি, তথ্য, বাইং নাকি নেভিগেশনাল। আপনাকে সেটা বিবেচনা করে কিওয়ার্ড নির্বাচন করতে হবে।

২। আপনাকে সার্প (SERPs) এনালাইসিস করতে হবে, দেখতে হবে কোন কোন কিওয়ার্ড রেংক করেছে বা করছে।

৩। সিমান্টিক বিষয়গুলা গবেষনা করতে হবে আর আপনার আর্টিকেলে সেসকল টার্মস্ নিয়ে ইন ডেফ্ত আর্টিকেল লিখতে হবে।

লম্বা কনটেন্ট

আপনাকে আর্টিকেলের বিষয়বস্তুর ডিপে ঢুকতে হবে। আপনাকে অবশ্যই রিলেভেন্ট বিষয়গুলো আপনার আর্টিকেলে কভার করতে হবে। বিভিন্ন গবেষনায় দেখা গেছে ২২৫০ থেকে ২৫০০ ওয়ার্ডের আর্টিকেলগুলো বেশি অর্গানিক ট্রাফিক পেয়ে থাকে। তাই অবশ্যই অবশ্যই এই বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। চলুন আর কি কি বিবেচনা করতে হবে জেনে নেই-

১। আপনাকে অবশ্যই টপ রেংকিং পেজগুলো এনালাইসিস করতে হবে। এবং তাদের থেকে আইডিয়া নিতে হবে।

২। সিমান্টিকালি রিলেটেড কিওয়ার্ডগুলো খুজে বের করতে আর্টিকেলে কভার করতে হবে। আর এর জন্য গুগলে আপনার কিওয়ার্ড লিখে সার্চ কলে সাজেশনে ভালো সিমান্টিক কিওয়ার্ড আইডিয়া পেতে পারেন।

আরো পড়ুন ::  পেইড এসইও কোর্স কিনেও কেন আপনি সফল হতে পারেন না

৩। আপনার টপিক নিয়ে ইউজাররা কি কি বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে তা খুজে করতে হবে। পিপল অলসো আস্ক অপশনটি ফলো করা আপনার জন্য সহজ হবে।

কনটেন্টকে সাজিয়ে নিন

একটি আর্টিকেলের অনেক উপাদান থাকে সেই উপাদান গুলো সঠিক ভাবে অপটিমাইজ করতে হবে। যেমন-

১। আর্টিকেলের টাইটেল, ইউআরএল স্লাগ এবং পেজ টাইটেলে এক্সাক্ট কিওয়ার্ড রাখার চেষ্টা করুন।

২। হেডার সেকশনগুলো এমন ভাবে করুন তৈরী করুন যাতে সেগুলো মূল কিওয়ার্ডের রিলেটেড বিষয়বস্তু হয়।

২। ইউজার ইনগেজমেন্ট

ইউজার ইনেগেজমেন্ট বলতে আমরা আসলে একটা ইউজার কত সময় কিভাবে আমাদের আর্টিকেলে অবস্থান করছে তাকে বুঝি। একজন ইউজারকে যত বেশি সময় ধরে আর্টিকেলে আটকে রাখা যায় আর্টিকেলটি ততো দ্রুত রেংক করার সম্ভাবনা থাকে। আর ভিজিটর আটকে রাখতে কেউ কেউ আর্টিকেলে ভিডিও পর্যন্ত ইমবেড করে থাকেন। যাই হোক বিষয়গুলো আরো বিস্তারিত জেনে নেই-

পেজ পার সেশন

পেজ পার সেশন বলতে আমরা বুঝি একজন ভিজিটর আপনার ওয়েব সাইটিটি লিভ করার আগে কতগুলো পেজ ভিউ করতে করছে তাকে বুঝি। এটা দিয়ে বোঝা যায় একজন ইউজার আপনার সাইটিকে কিভাবে দেখছেন। আর এই ম্যাট্রিক্সটির উপর ভিত্তি করেই আপনার ওয়েব সাইটের কনটেন্টগুলো সাজাতে হয়। মূলত এই তথ্যটি গুগল এনালাইটিকস্ থেকে পেয়ে যাবেন। চলুন দেখে নেই কিভাবে অপটিমাইজি করা যায়।

১। প্রথমে আপনার সাইটের পেজ পার সেশনটি এনালাইসিস করুন। এবং বোঝার চেষ্টা করুন কোন পেজে হাই বাউন্স রেট রয়েছে আবার কোন পেজে ইজার বেশি সময় ইনগেজ রয়েছে।

২। আর্টিকেলের ভিতরে ইউজারের ইনগেজমেন্ট বাড়াতে কল টু একশন দিতে পারেন।

৩। আর্টিকেলের বিভিন্ন পজিশনে ইন্টারনাল লিংক করুন অথবা রিলেটেড রিডিং অপশন এড করতে পারেন।

বাউন্স রেট

বাউন্স রেট আর একজন কনফিউজিং বিষয়। যদিও এটি রেংকিং ফ্যাক্টর নয় তবুও আপনি এটাকে পজেটিভ বা নেগেটিভ দুইভাবে দেখতে পারেন। যাই হোক বাউন্স রেট হলো একজনি ইউজার আর্টিকেলে কত সময় ধরে অবস্থান করছে তাকে বোঝায়। বাউন্স রেট অনেক ভাবে অপটিমাইজ করা যায়। চলুন জেনে নেয়া যাক-

১। আর্টিকেলগুলা গল্পের মত করে সাজাতে পারেন যাতে ইউজার পড়ে মজা পায়।

আরো পড়ুন ::  কনটেন্ট লেখার আগে কিভাবে কনটেন্ট স্ট্রাকচার দাড় করাবেন

২। আর্টিকেলের ভিতরে বিরক্তিকর পপ-আপ এডগুলো বন্ধ রাখতে পারেন।

৩। পেজের লোডিং টাইম বাড়াতে হবে।

৪। ল্যান্ডিং পেজ অর্থাৎ ইউজারকে যে পেজে ডেকে নিয়ে আসলেন সেই পেজটা যেন অবশ্যই ইউজারের কোয়ারির সাথে মিল থাকে।

ক্লিক থ্রো রেট

ক্লিক থ্রো রেট হলো, ইউজার আপনার আর্টিকেল দেখার সাথে সাথে কতজন আর্টিকেলে প্রবেশ করছে। তার মানে দাড়ালো, ইজার সাধারনত আপনার আর্টিকেল গুগলের রেজাল্ট পেজে দেখতে পান। দেখার সময় যদি আর্টিকেলে ক্লিক করে আপনার সাইটে আসে তাকে ক্লিক থ্রো রেট বলবো। চলুন এটি বাড়ানোর উপায়গুলো জেনে নেই-

১। এক্সাক্ট কিওয়ার্ড আপনার সাইটের টাইটেল ও মেটা ডিসক্রিপশনে বসাতে পারেন যাতে করে কেউ সার্চ করলে কিওয়ার্ডটি বোল্ড আকারে শো হয়।

২। আপনার সাইকে ভিজিট করলে ইউজার কি কি বেনিফিট পাবেন তা মেটা ডিসক্রিশনে এড করুন।

৩। প্রতিটা ট্যাগ যেন সঠিক লেন্থ এর হয় সেদিকে নজর দিতে হবে যেমন, মেটা ১২০ থেকে ১৫০ ক্যারেক্টার, টাইটেল ৬৫ ক্যারেক্টার, সাব টাইটেল বা এইচ ট্যাগ সর্বচ্চ ৭০ ক্যারেক্ট ইত্যিাদি যাতে করে গুগলে কোন অংশ কাটা না পড়ে।

৩/ টেকনিক্যাল স্ট্রাকচার

বর্তমান সময়ে টেকনিক্যাল স্ট্রাকচার খুবই গুরুত্বপূর্ন বিষয়। তবে এবিষয়ে আপনাকে কিছুটা নলেজ গ্যাদার করতে হবে। পড়াশুন করতে হবে এবং টেকনিক্যাল কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। চলুন বিস্তারিত জেনে নেই-

ক্রল এবলিটি

সাইটি ইনেডেক্স হতে সাইটটি ক্রোল হওয়া জরুরী। আর তার জন্য সাইটম্যাপ, ইন্টারনাল লিংকিং ও ক্রোল বাজেট অপটিমাইজেন উল্লেখযোগ্য টপিক।

১। সাইটম্যাপ তৈরী করুন। গুগল বা বিং সার্চ কনসল বা ওয়েব মাস্টার টুলে সাবমিট করুন।

২। যে পেজগুলো ইনডেক্স হওয়ার দরকার নাই সেগুলো রোবর্ট ফাইল দিলে ব্লক করে রাখতে পারেন।

৩। রিডাইরিক্ট চেইন সব সময় পরিষ্কার রাখুন এবং ডায়নামিক ইউআরএল ইউজ করুন।

সিকিউরিটি

সাইটে HTTPS সিকিউরিটি থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ন। এটাকে আমরা গুগলের পেজ এক্সপ্রিয়েন্স রেংকিং ফ্যাক্টর বলতে পারি।

১। আপনার হোষ্টিং প্রভাইডারের সাথে যোগাযোগ করুন এবং SSL সার্টিফিকেশন কিভাবে পেতে পারেন তা নিয়ে আলোচনা করুন।

২। robots.txt ফাইলে সাইটম্যাপ যোগ করুন। এবং সেখানে সঠিক ইউজার এজেন্ট কমান্ড ইউজ করুন।

৩। .htaccess ইডিট করে সাইটকে HTTPS এ রিডাইরেক্ট করে দিন।

আরো পড়ুন ::  Siloing কি? যেভাবে আপনার সাইটের Silo করবেন জেনে নিন

URLs পরিষ্কার রাখুন

এটি গুরুত্বপূর্ন অংশ। আপনি অবশ্যই চাইবেন না আপনার সাইটে ব্রকেন লিংক থাকুক অথবা ভুল জায়গায় রিডাইরেক্ট থাকুক।তাই বিষয়টা নজরে আনতে হবে।

১। সইটে অডিট করে 4xx এবং 5xx স্টাটাস কোড খুজে বের করতে হবে।

২। ব্রকেন পেজগুলো রিলেভেন্ট পেজে ৩০১ রিডাইরেক্ট করে দিন।

৩। ওয়েব হোষ্ট প্রভাইডারের সাথে 5xx ইস্যুর জন্য যোগাযোগ করুন।

৪/ ইন্টিারনাল লিংকিং

অনেকগুলো কারনে ইন্টারনাল লিংকিং গুরুত্বপূর্ন আর তা হলো, ক্রালাবিলিটি, ইউজার এক্সপ্রিয়েন্স, ইনফরমেশন আর্কিটেকচার, কনটেন্ট এর ভেল্যু বাড়ানো ও লিংক বিল্ডিং এর জন্য। চলুন আরো একটু বিস্তারিত জেনে আসি।

ডিপ লিংক

ডিপ লিংক এসইও এর বেষ্ট প্রাকটিস বলা যায়। অরফান পেজগুলোকে খুজে বের করে হাই লেভেল ক্যাটাগরি পেজে লিংক করলে এক পেজ থেকে অন্য পেজে অথোরিটি পাস হয়। সেম টপিকের আর্টিকেলের মাঝে এভাবে ইন্টিারনাল লিংক করলে অরফান পেজটিতে পাওয়ার বিদ্ধি পায় যাতে করে রেংক হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

১। অর্ফারন পেজগুলো খুজে বের করুন যা ইনিডেক্স হয়নি।

২। পরিকল্পিত ভাবে অথোরিটি পেজগুলোর সাথে কম পক্ষে ২টি লিংক করে দিন। 

ধারাবাহীক ভাবে ওয়েব সাইট সাজান

বিষয়টা হলো, সাইটকে এমন ভাবে সাজানো যাতে করে সার্চ ইঞ্জিন বা ইউজার সাইটের তথ্যগুলো সঠিক ভাবে খুজে পায়। এটি হতে পারে, ক্যাটাগরি, নেভিগেশন ইত্যাদি।

১। এনালাইসিস করুন একজন ইউজার আপনার সাইটে কি চায়। 

২। ক্যাটাগরি এবং সাব ক্যাটাগরিকে সঠিক কিওয়ার্ড দিয়ে অপটিমাইজ করুন।

৩। ব্রেডকামস্ ও ফুটার সেকশনে প্রয়োজনীয় লিংক ইউজ করুন যাতে করে ইউজাররা নির্দিষ্ট পেজে সহজেই ফিরে যেতে পারে। 

৫/ মোবাইল অপটিমাইজেশন

মোবাইল ফাস্ট ইন্ডেক্সিং এর যুগ এখন। মোবাইল ভার্সনকে গুগল খুব বেশি প্রায়রিটি দেয়। দেখা যায় বর্তমানে ডেক্সটপ ভার্সনের চেয়ে মোবাইল ইউজার বেশি তাই মোবাইল অপটিমইজেশন জরুরী বিষয়।

১। সাইটকে রেসপনসিভ করুন।

২। সাইটকে AMP তে কনভার্ট করতে পারেন।

৩। সাইটের গতি বাড়ান, বিশেষ করে অনসাইট রিসোর্স গুলো মিনিফাই করুন। 

উপসংহার

আশা করছি আজকের এই ৫টি On-Site SEO Factors গুলা আপনাদের খুব কাজে আসবে। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।

Leave a Comment