Cart
0৳ 
0
How can I learn soap making in Bangladesh

কিভাবে বাংলাদেশে সোপ মেকিং শিখতে পারবেন?

বর্তমান সময়ের একটি ট্রেন্ডিয় টপিক হ্যান্ডমেড সোপ মেকিং। সবার ভিতরে একটাই প্রশ্ন বাংলাদেশে কিভাবে বা কোথা থেকে সোপ মেকিং শেখা যাবে? আজকে তাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবো। এই আর্টিকেলটিতে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে আপনি সোপ তৈরী করতে পারবেন, কিভাবে শুরু করবেন। চলুন তাহলে কথা না বাড়িয়ে মূল আলোচনায় চলে যাই।

কিভাবে হ্যান্ডমেড সোপ মেকিং শেখা যাবে?

হ্যান্ডমেড সোপ মেকিং শেখার আগে কিছু বিষয় সম্পর্কে আপনাদের ধারনা থাকতে হবে, যেমন সোপ আসলে কি? কত উপায়ে সোপ তৈরী করা যায়, কি কি উপাদান দরকার হয়, কি কি যন্ত্রপাতি লাগবে। চলুন একে একে বিষয়গুলো আলোচনা করি।

সোপ কি?

সোপ হলে ফ্যাট বা চর্বির হাইড্রোলাইসি অর্থাৎ এলাকালি বা ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া। যার ফলে ফ্যাটি এসিডের লবন ও গ্লিসারিন উৎপাদন হয়। ফ্যাটি এসিডের এই লবনকেই আমরা সোপ বলে চিনে থাকি।

কত উপায়ে সোপ তৈরী করা যায়

সোপ সাধারনত দুটি উপায়ে তৈরী হয়, একটি কোল্ড প্রসেজ অন্যটি হট প্রসেজ। আমরা মূলত কোল্ড প্রসেজ সোপ মেকিং কোর্স করিয়ে থাকি।

কোল্ড প্রসেজ সোপ মানে যে সকল সোপ সর্বচ্চ ১২০ ডিগ্রি ফারেন হাইট টেমপেরেচার মেন্টেন করে তৈরী করা হয়। তবে সাধারনত ৮০-১০০ ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে হট প্রসেজ সোপ হলো উচ্চ তাপমাত্রায় তৈরী করা হয়। তবে বিশ্বব্যপি বিউটি সোপ তৈরীতে কোল্ড প্রসেজ ব্যবহার করা হয় ও জনপ্রিয়।

অনেকেই প্রশ্ন করেন, কোল্ড প্রসেজ সোপ ভালো নাকি হট প্রসেজ সোপ ভালো? এমন প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা কঠিন, কারন সোপ ভালো বা মন্দ নির্ভর করে সোপে কি কি উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন- পাম তেল দিয়েও সোপ তৈরী করা সম্ভব আবার অলিভ তেল দিয়েও সোপ তৈরী করা সম্ভব। পাম তেলের চেয়ে নিশ্চই অলিভ তেল বেশ উপকারী। তবে আমাদের মত কোল্ড প্রসেজ বেশ উপকারী, কারন এখানে যে সকল উপাদান ব্যবহার করা হয়, তাতে উচ্চ তাপমাত্রা না থাকার কারনে তার গুনগত মান অক্ষুন্ন থাকে বলে মনে করি।

সোপ তৈরীতে কি কি উপাদান ব্যবহার করা হয়?

সোপ তৈরীর জন্য যে কোন তেল ও কষ্টিক সোডা দরকার হয়। তবে এখানে হিসাবটা হলো, কতটুকু তেলে কতটুকু কষ্টিক সোডা দরকার হবে। আসলে প্রতিটা তেলের আলাদা আলাদা স্যাপ ভেলু থাকে। যেমন নাকিকেল তেলের স্যাপ ভ্যালু ১৩১.৭৩ গ্রাম পার কেজি। অর্থাৎ প্রতি ১ কেজি নারিকেলে তেল সাবান বা সোপে কনভার্ট করতে ১৩১.৭৩ গ্রাম কষ্টিক সোডা দরকার হবে। অনলাইনে খুজলে এমন স্যাপ ভেলু খুজে পাওয়া যাবে।

তবে বিউটি সোপ তৈরী করতে অবশ্যই লাক্ষারিয়াস ওয়েল ব্যবহার করা উচিৎ। অর্থাৎ যে তেলগুলো ত্বকের জন্য উপকারী সেসব তেল ইউজ করাটা উত্তম। যেমন, আলমন্ড ওয়েল, এভোকাডো ওয়েল, অলিভ ওয়েল, ইত্যাদি।

কি কি যন্ত্রপাতি দরকার হবে?

হ্যান্ডমেডি সেপ তৈরীতে মূলত তেমন কোন যন্ত্রপাতি দরকার হয় না। কিছু স্টেইনলেস স্টিল পাত্র, নাড়ানি, থার্মোমিটার আর মোল্ড হলে হয়ে যাবে। তবে একটু প্রফেশনাল চিন্তা করতে অবশ্যই আপনাকে প্রফেশনাল যন্ত্রপাতি নিতে হবে। প্রাথমিক ভাবে শুরু করতে আপনাকে ২০ হাজার টাকার মত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কিনতে হবে। যা দিয়ে আপাততো চলা সম্ভব। তবে বাল্ক প্রডাকশনের জন্য বড় রকম সেটআপ ও পরিবেশ দরকার হবে।

সব শেষে

আজকাল আমাদের চারিদিকে বিভিন্ন রকম ভাইরাল সোপ দেখা যায়, বিশেষ করে স্যাফরন গোট মিল্ক সোপ। আমরা এনালাইসিজ করে দেখেছি এর প্রতিটা সোপ উচ্চ রং ও কেমিক্যালের মিশ্রন যা দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে আপনার ত্বকের মারাক্তক ক্ষতি হতে পারে। এসব সোপ তৈরীতে তাদের নেই কোন সঠিক প্রশিক্ষন। নিন্মমানের সোপ বেজের ভিতরে রং ও ক্যামিকেল মিশিয়ে তুলে দেয়া হচ্ছে ক্রেতার হাতে। তাই যারা সোপ মেকিং এ আগ্রহী তারা অবশ্যই সঠিক প্রশিক্ষনের মাধ্যমে সোপ তৈরী করতে আমাদের সোপ মেকিং কোর্সটিতে জয়েন করুন। আমাদের প্রশিক্ষনে আপনি সোপ মেকিং এর থিওরী থেকে শুরু করে বাল্ক প্রডাকশন পর্যন্ত সকল বিষয়ে জানতে পারবেন। আমরা মূলত আন্তর্জাতিক মানের সোপ মেকিং শিখিয়ে থাকি। যা খুব সহজে বিদেশে রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশি মূদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *