ইন্টারনাল এবং এক্সটারনাল লিংকিং কি? লিংকিং এর গুরুত্ব

আমরা যার এসইও নিয়ে কাজ করি তারা সাবাই কম বেশি ইন্টারনাল এবং এক্সটারনাল লিংক সম্পর্কে জানি। আমরা এও জানি এই লিংকি অন্যতম র‌্যাংকিং ফ্যাক্টরস্। তাইতো আমরা আর্টিকেল পাবলিষ্ট করার সময় বিভিন্ন সাইটে এবং নিজেদের ভিতর লিংক দিয়ে থাকি। তবে প্রবলেম হলো, আমরা অনেকেই না জেনে লিংক করে থাকি আবার কেউ কেউ জেনে করি। যারা না জেনে লিংক দিয়ে ইয়োষ্টে গ্রিন বাতি জালিয়ে দেই তাদের জন্য আজকের এই লেখাটা।

ইন্টারনাল লিংক কি?

ইন্টারনাল লিংক হলো নিজেদের ভিতরে লিংক দেয়া, অর্থাৎ আপনি একটা আর্টিকেল পাবলিষ্ট করতে যাচ্ছেন, আপনার সাইটে অন্য যে আর্টিকেল আছে সেখানে লিংক করে দেয়া যাতে করে কোন ভিজিটর যখন আপনার আর্টিকেল পড়তে আসবে তখন আপনার ইন্টারনাল লিংক এ ক্লিক করে অন্য আর্টিকেলও পড়তে বসবে। এতে ডিউয়েল টাইম বাড়বে এবং বাউন্স রেট কমবে। সেই সাথে দ্রুত র‌্যাংক করবে। 

এতো গেলো সাধারন কথা, এবার একটু ভিন্ন কথা বলি। আমরা সবাই জানি আর্টিকেল হতে হবে ইনডেফত্ অর্থাৎ আপনার কিওয়ার্ডের সাথে রিলেটেড টপিকগুলো যতটা কভার করবেন আপনার আর্টিকেল ততো ইনডেফত্ এ পরিনত হবে। আর এই ইনডেফত আর্টিকেল কম ওয়ার্ডের হলেও এটি র‌্যাংক করার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। 

একটা আর্টিকেলকে ইনডেফত্ হিসেবে প্রমান করতে ইন্টারনাল লিংকিং খুবই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। জোবায়ের একাডেমির এক্সপ্রিমেন্ট থেকে সুস্পষ্ট প্রমানিত যে,

একটা আর্টিকেলে যতো বেশি রিলেভেন্ট ইন্টারনাল লিংক থাকবে সেই আর্টিকেলটা সার্চ ইঞ্জিনে ততো বেশি ভেলু পাবে।  দ্রুত ইনডেক্স হবে, সার্চ কনসল দ্রুত কিওয়ার্ড পিক করবে এবং দ্রুত র‌্যাংক করবে।

আমি আবারো পরিষ্কার ভাবে বলছি, রিলেভেন্ট লিংক দরকার, অবাঞ্চিত কোন লিংক নয়। যদি এই লিংকিং নিয়ে আমাদের সাইলো আর্টিকেলটিতে আরো বেশি বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছিলো। চাইলে পড়ে আসতে পারেন।

আরো পড়ুন ::  কনটেন্ট লেখার আগে কিভাবে কনটেন্ট স্ট্রাকচার দাড় করাবেন

এক্সটারনাল লিংক কি?

আমাদের মূল ভুলটি হয় এই অধ্যায়ে। আমরা অনেকেই বুঝি না আসলে এক্সটারনাল লিংক কি? তাই তো যে কোন একটা সাইটকে ধরে লিংক করে ইয়োষ্ট সবুজ বাতি জালিয়ে দেই।

এক্সটারনাল লিংক বুঝতে হলে আগে আপনাকে বুঝতে হবে আর্টিকেল কাকে বলে। আর্টিকেল কি সেটা সহজ ভাবে বলতে গেলে বলা যাবে, এক একটি আর্টিকেল হলো এক একটি গবেষনা। অর্থাৎ কোন একটা টপিক নিয়ে গবেষনা। আর এই গবেষনা করতে হলে আমাদের কি কি করতে হবে? প্রচুর আর্টিকেল বা বই পড়তে হবে। তারপরে নিজের ভাষায় বিষয়টাকে সহজ ভাবে তুলে ধরাকেই আমরা আর্টিকেল বলবো। 

আর্টিকেল মানে অন্যের আর্টিকেলের বাক্যগুলোকে ঘুরিয়ে বলা নয় কিংবা সম্পূর্ন আর্টিকেলকে স্পিন করা করা নয়।

এবার চলুন বিষয়টা ক্লিয়ার হয়ে নেই, উপরে কোটেশনের ভিতরে আজ একটা তথ্য আপনাদের শেয়ার করেছি ভালো করে দেখুন।

এবার ধরুন আপনি একটা আর্টিকেল লিখতে বসলেন যেটার টপিক ইন্টারনাল লিংকিং। তাহলে আপনি আপনার আর্টিকেলে উল্লেখ করতে পারবেন, জোবায়ের একাডেমি বলেছেন, 

একটা আর্টিকেলে যতো বেশি রিলেভেন্ট ইন্টারনাল লিংক থাকবে সেই আর্টিকেলটা সার্চ ইঞ্জিনে ততো বেশি ভেলু পাবে।  দ্রুত ইনডেক্স হবে, সার্চ কনসল দ্রুত কিওয়ার্ড পিক করবে এবং দ্রুত র‌্যাংক করবে। আমি বিষয়টার সাথে পুরোপুরি একমত।

যেহেতু আপনি জোবায়ের একাডেমির লেখাকে ব্যাখ্যা করেছেন তাই আপনার উচিৎ হবে জোবায়ের একাডেমি বিষয়টা কোথায় এ কথাটা বলেছে তার লিংকটা দিয়ে দেয়া। তাই উপরের আন্ডারলাইন করা শব্দটিকে আপনি মূল আর্টিকেলের লিংক করে দিতে পারেন। যাতে করে ভিজিটর আপনার কথাকে খুব সহজেই বিশ্বাস করে। তখন ভিজিটর মনে করবেন আপনি যেহেতু রেফারেন্স ছাড়া কথা বলেন না তাই অবশ্যই আপনার কথা বিশ্বাসযোগ্য। আর ভিজিটর যতই আপনাকে বিশ্বাস করবেন, ঐ ভিজিটরের আপনার সাইটে আবারে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি আপনার ব্রান্ড ভেলু বাড়বে। অন্যদিকে সার্চ ইঞ্জিনও আপনাকে বিশ্বাস করতে শুরু করবে। আর সার্চ ইঞ্জিন বিশ্বাস করা মনে আপনার আর্টিকেল র‌্যাংক নিশ্চিৎ।

আরো পড়ুন ::  Siloing কি? যেভাবে আপনার সাইটের Silo করবেন জেনে নিন

তাই সংক্ষেপে বলতে পারি, এক্সটারনাল লিংক হলো কোন কথার রেফারেন্স। জোর করে কোন অথোরিটি সাইকে লিংক দিয়ে ইয়োষ্টে গ্রিন বাত্তি জ্বালানো নয়। ঠিক একই ভাবে ইন্টারনাল লিংক হলো আপনার বিভিন্ন আর্টিকেলে লিংক দিয়ে ভিজিটরকে আটকে রাখা। আর যতো আটকে রাখতে পারবেন, সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক করার সম্ভাবনা ততো বাড়ে যাবে।

আশা করছি, ইন্টারনাল এবং এক্সটারনাল বিষয় আপনাদের বোঝাতে পেরেছি। তাই এই দুটি বিষকে অবহেলা করার কোন সুযোগ নেই। তো, আজকের মতে এই পর্যন্ত, সবাই ভালো থাকবেন। আবারো দেখা হবে নতুন আর্টিকেলে। আল্লাহ হাফেজ।

1 thought on “ইন্টারনাল এবং এক্সটারনাল লিংকিং কি? লিংকিং এর গুরুত্ব”

Leave a Comment